রাজারহাটে এলজিইডির প্রায় চার কিঃমিঃ রাস্তা পাকাকরণ কাজে ব্যাপক অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেছে।এলাকাবাসী এই অনিয়মের প্রতিবাদ জানান এবং উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদ সোহরাওয়ার্দী বাপ্পী কে বিষয় টি অবগত করলে গত ১১ই জুলাই রোববার বিকেলে রাস্তাটি পরিদর্শনে আসেন তিনি।উপজেলার উমরমজিদ ইউনিয়নের জোড়সয়রা বাজার হতে বটতলা বাজার পর্যন্ত ৩.০৭৭ কিঃমিঃ রাস্তাটি এলজিইডির অর্থায়নে ২ কোটি ২১ লাখ ২৮হাজার ৪টাকা ব্যয়ে রংপুরের খায়রুল এন্টারপ্রাইজ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কে দেওয়া হয়।২০১৮-১৯ অর্থ বছরের কাজটি ২০২১ সালেও খায়রুল এন্টারপ্রাইজ শেষ করতে পারেনি।সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,স্টিমেট অনুযায়ী রাস্তাটি প্রস্থ ১০ফিট ৪ইঞ্চি উল্লেখ থাকলেও ৯ ফিট করা হয়,পরে স্থানীয়দের তীব্র প্রতিবাদের মুখে রাস্তাটির প্রস্থ স্টিমেট অনুযায়ী করা হয়। সাববেজ রেশিও সঠিকভাবে করা হয়নি। ১ঃ১ খোয়া ও বালুর কথা উল্লেখ থাকলেও খোয়ার তিনগুন বালি ফেলানো হয়।স্থানীয় তরুণ রানা বলেন খোয়া ও বালু মিক্সিংয়ে ব্যাপক অনিয়ম করা হয়েছে খোয়ার ইট ছিলো নিম্নমানের আর বালি যেন পলিমাটি। তাছাড়া প্রায় ৪কিঃমি রাস্তায় স্টিমেটে কোথাও একটা ব্রিজ বা কালভার্টও নাই।রাস্তার দুপাশে বিস্তৃর্ণ সিংগীমারির দোলায় প্রায় ৭শ একর দুফসলী আবাদি জমি পানিবন্দী হওয়ার আশংকা রয়েছে।পানি চলাচল করতে না পারলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম,ওমেদ আলী ও মানিক মিয়া সহ এলাকাবাসী প্রতিবেদক কে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন রাস্তায় খোয়ার সাথে বালি না দিয়ে কাদাযুক্ত বালি দেয়,আমরা প্রতিবাদ করলে ঠিকাদারের প্রতিনিধি বলেন এগুলোই বালি কাজ এভাবেই হবে।
স্থানীয় যুবক মানিক মিয়া বলেন রাস্তার কাজের অনিয়মের কথা আমি উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার আবু তাহেরকে জানাই-রাস্তা ৯ফিট করাসহ নিম্নমানের খোয়া ও কাদাযুক্ত বালি ফেলানো হচ্ছে,তখন তিনি আমাকে বিষয় টা নিয়ে বেশী বাড়াবাড়ি না করে বিশেষভাবে সাক্ষাত করার কথা বলেন কিন্তু আমি তার প্রস্তাবে রাজি হইনি।রাস্তার অনিয়মের বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী আবু তাহের কে ফোন দিয়ে তার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি ফোন কেটে দেন। এরপরও প্রতিবেদক একাধিকবার ফোন ও ম্যাসেজ দিলেও তিনি কোন উত্তর দেননি।
এবিষয়ে রাজারহাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদ সোহরাওয়ার্দী বাপ্পী বলেন স্থানীয়দের দাবীর প্রেক্ষিতে রাস্তাটি পরিদর্শন করতে এসেছি ত্রুটিগুলো চিহ্নিত করলাম আমি সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করবো এবং উপজেলা পরিষদের এডিবির বাজেট থেকে রাস্তায় ব্রিজ করে দিবো।