1. admin@durontokhobor.com : admin : Md Oliullah Sarker Autol
  2. durontodesk@gmail.com : SK Md. Kamal Uddin : SK Md. Kamal Uddin
বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:০৮ অপরাহ্ন

করোনা বিষয়ক ড. মোহাম্মদ ইদ্রিস ভূইয়ার অভিজ্ঞতা

শেখ মো. কামাল উদ্দিন
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ৯ আগস্ট, ২০২১
  • ১২২২ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

ড. মোহাম্মদ ইদ্রিস ভূইয়া সম্প্রতি করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি সুস্থ জীবনে ফিরে আসার জন্য কিছু উপদেশ জনগণের উদ্দেশ্যে বর্ণনা দেন। এটি হুবহু নিম্নে উপস্থাপন করা হলো।করোনা আক্রান্ত হয়ে আমার অভিজ্ঞতা।  আমি নিজ গ্রাম শিমরাইল গিয়েছিলাম গত ৯ই জুলাই শুক্রবার। ১২ই জুলাই সেখানে আক্রান্ত হই। আক্রান্তের কথা শুনে‌ক্ষনিকের মাঝে সব যেন উলট পালট হয়ে গেল,আমাকে যে দুজন কসবা পৌঁছে দিবে রাতে কথাদিয়েছিল তারা এতটাই পর হয়ে গেল; সকালে আর ফোন রিসিভ করল না। তাৎক্ষণিক   পাশের গ্রামের একজনকে ফোন করে অসহায়ত্বের  কথা জানালে  তিনি একটি গাড়ি নিয়ে  নিমেষে এসে  কসবা পৌঁছে দিল এবং বলল যা হবার হবে আমি আপনার পাশে আছি। এর মধ্যে  আমার বড় ছেলে, মেঝো ছেলে,ছোট ছেলে যার যার অবস্থান নোয়াখালী,রাঙ্গামাটি, ঢাকা থেকে চলে কসবা চলে এলো।। সাথে একজন ডাক্তারও নিয়ে এলো। সিদ্ধান্ত হলো এই বাসায়ই চিকিৎসা হবে। আমি আই সি ও সাপোর্টের প্রয়োজন হলে আমার পুরাতন হসপিটাল সাবেক এপোলোতে দ্রুত হেলিকপ্টার  নেয়া হবে। এদিকে পরদিন  আমার ছোট ভায়রা  করোনা ও ব্রেনস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে উত্তরা বাসার পাশেই বাংলাদেশ মেডিকেলে ভর্তি। ছোট ভাই জাকারিয়া  শ্রীপুেরের তার খামার থেকে এসে গ্রীন লাইফে ভর্তি  হয়েছে। মোবাইলে উভয়ের সাথে  কান্নাই একমাত্র  ভাষা।‌দুর্বিপাক; দুর্দশা, দুঃখ  কষ্ট; ক্লেশ; দারুণ যন্ত্রণা; ইত্যাদি প্রতিহত করতে হয় আনন্দঘন, আনন্দময় প্রানবন্ত পরিবেশে বা ধর্মীয় দোয়ার  পরিবেশে। মুসলমান রা ৫ওয়াক্ত নামাজে অজু করেন করোনার পরামর্শকদের কথায় নয় অথচ পবিত্র  ইবাদতকে বাধাগ্রস্ত  করা হয়েছে।এবারের মহামারী  ভীতি দিয়ে সূচনা। ভাইরাসটির বারবার অপ্রয়োজনীয় ছবি ভীতিপূর্ণ প্রচারনা। যতনা বাস্তবে  তার চেয়ে শতগুণ বেশী ভীতির প্রচারনা ছিল। যদিও দেশের আইন বলছে সচেতনার কথা। একবার ও সমন্বয় করার জন্য বলা হলো না  দৈনিক  ঘর মৃত্যু  ২৫০০ -২৭০০ এবং করোনার মৃত্যু  –!!জীবন বা Life এর সাথে LifeStyle বা জীবনধারার খেলা চলছে । জীবন হলোা,স্নেহ মমতা ভালবাসা। জীবনধারা হলো ক্ষমতা দাপট ফুটানী। যা মানুষ থেকে মানুষকে ছোট-বড়  করার মানুষি চাল চলন।মানুষ মাটির সৃষ্টি। তাই মানুষকে মাটি স্পর্শ করতে  হবে, জলধারায় পায়চারি করতে হবে নিয়মিত। জীবনের ৫টি করনীয় মৌলিক দিক বাদ দিয়ে মানুষ আজ বাক্সে  বন্দী হয়ে গেছে। গ্রামের পরিবেশেও বিল্ডিং, সহরে এপার্টমেন্ট,- বাসা,অফিস, মানে বাক্সে জীবন যাপন।  হাঁটবেন না জ্যামে পরে থাকবেন ঘন্টার পর ঘন্টা।  এসি গাড়ীতে,ভাব দেখাবেন  মর্যাদার – কে কার চেয়ে বড় এই এটি হলো ‘লাইফ ষ্টাইেলে’ আক্রান্ত  বাংলাদেশের মানুষের চেহারা। এবার মুলত এই লাইফ স্টাইলে  মহামারী আক্রমণ করেছে। জীবনের উপর ঠেলে দেয়া শুরু হলো‌ স্নেহ,ভালবাসা, মমতাকে তুচ্ছ  করে, আক্রান্তকে মৃত্যুর আগে ও পরে  অপমান  অবহেলা করা   যা পূর্বের মানবিক বন্ধনে ফিরিয়ে নিতে শতাব্দী  লেগে যাবে।কভিড ১৯ আক্রান্ত হলে মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েন আক্রান্ত। চিকিৎসা বিজ্ঞান বলে, এসময় রোগীর মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নিতে হবে এবং তাকে সাহস দিতে হবে। এটাই প্রধান প্রতিষেধক হিসাবে গৃহিত ও সাব্যস্থ  বিষয় সারা দুনিয়ার চিকিৎসা বিজ্ঞানে । কিন্তু বাংলাদেশে   এক্ষেত্রে হলো শতভাগ বিপরীত।  করোনার রোগী হাসপাতালে ঢুকতেই রোগী র আত্মীয় থেকে লিখে নেয়া মৃত্যুর জন্য হাসপাতাল দায়ী নয়। এইভাবে রোগীর প্রতি মৃত্যু পর্যন্ত প্রতিটি  স্থরে  মানবতাকে বিপরীতগামী করার নির্মম অবজ্ঞা।পৃথিবীতে স্পেনিশ ফ্লু সহ এমন অনেক ধাক্কা এসেছে কিন্তু এত ভীতিকর ভাবে দিনের শুরুতেই মিডিয়ায় সাধারণ মৃত্যুর হার যেখানে  ২৫০০ থেকে ২৭০০ এর অধিক সেটি জনগনকে বুঝতে না দিয়ে   প্রচার  হতে থাকে শুধু করোনায় মৃত্যু আর করোনায় মৃত্যুর মিছিলের  কথা। এ কি মহা বিস্ময়। ভাইরাসটির ছবি সাধারণ মানুষের প্রয়োজন ছিল না? শুধু ভীতি প্রচার করার জন্য সেটিও ফলাও করা হয়েছে। রোগ নিরাময়ে সরকারি  অধিকর্তারা নিজস্ব  স্বার্থ অটুট রাখতে আইনের মৌলিকত্ব  সচেতনতা সৃষ্টি না করে ভীতি প্রদর্শন  ও প্রচার করে উল্টো কাজ করে  মানবতাকে বিপন্ন করে গেলেন।  প্রকৃতি কাওকে ক্ষমা করে না  প্রকৃতির বিচারে তাদের  বংশানুক ক্রমে করুণ পরিনতি তিলে তিলে ভোগ করতে হবে।পৃথিবীর কোন উন্নত বা ধনী দেশের পক্ষে  তার  অর্ধেক  লোকজনকেও হসপিটালে বেড দেয়া বা   চিকিৎসা দেয়া সম্ভব  নয়। প্রতিটি রোগী নিজের চিকিৎসা যাতে নিজে দিতে পারে  এবং নিজের  মধ্যে রোগটি সীমিত রাখে তা  উৎসাহিত না, করে হৈচৈ করে পক্ষ বিপক্ষ সৃষ্টি করে স্ট্রাকচার  ভেঙে দেয়া হলো ।যদিও জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত জরুরি অবস্থা মোকাবেলা এবং স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি হ্রাসকরণের লক্ষ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূলের উদ্দেশ্যে প্রণীত ২০১৮  সালের ৬১ নং আইনের মুল উদ্দেশ্য ও  মৌলিকত্ব  বাধাগ্রস্ত হয়েছে।বিঃদ্রঃ যদিও  টিকা চুড়ান্ত নয়, তথাপি টিকা নিতে হবে করোনাকে ধাক্কা দিবার জন্য। *জীবনের কাছে করোনা হেরে যেতে বাধ্য। *আমি ৬০% সুস্থ হয়েছি *আমার জন্য যারা বিনামুল্যে অক্সিজেন পাঠিয়েছেন জীবন নামক গ্রন্থে তারা মাইল ষ্টোন হয়ে থাকবেন। আর যারা বুঝে না বুঝে উপদেশ দিয়েছেন তাদেরকে বলতে চাই আগে নিজে suffer করুন অথবা রোগীর সেবা করে অভিজ্ঞতার আলোকে  উপদেশ দিন আক্রান্তরা উপকৃত হবে। নয়ত আপনারা ‘ লাইফ স্টাইল বা জীবন ধারায় ‘ বিশেষ  চরিত্রের ভূমিকা পালন করে গেলেন  বলে চিহ্নিত থাকবেন।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2020
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
jp-d802cf3c37440ece5a0e