1. admin@durontokhobor.com : admin : Md Oliullah Sarker Autol
  2. durontodesk@gmail.com : SK Md. Kamal Uddin : SK Md. Kamal Uddin
বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:০৩ অপরাহ্ন

আশুরার জুমাবারের স্মরণীয় ঘটনাবলী ও সাওম পালনের ফযিলত

শেখ মো. কামাল উদ্দিন
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১৭ আগস্ট, ২০২১
  • ১১৯৮ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

ইসলামের ইতিহাসে ঐতিহাসিক ঘটনাবলীর অনন্য ও স্মরণীয় দিবস হিজরি সালের মোহররম মাসের ১০ তারিখ তথা আশুরার দিন। মহান আল্লাহ তাবারোক তাআলার নিদর্শনে সংঘঠিত প্রধান কয়েকখানা উল্লেখ করা হলো:# আল্লাহ তাআলা পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন।
# আল্লাহ তাআলা আকাশ থেকে সর্বপ্রথম বৃষ্টি বর্ষণ করেছেন।# আল্লাহ তাআলা হযরত আদম আলাইহিস সালামের তাওবা কবুল করেছেন।# আল্লাহ তাআলা হযরত ইদ্রিস আলাইহিস সালামকে আকাশে উত্থিত করেছেন।# আল্লাহ তাআলা হযরত নুহ আলাইহিস সালাম ও তাঁর সাথীদের নাজাত দান করেছেন।# আল্লাহ তাআলা হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস সালামকে আগুন থেকে মুক্তি দান করেছেন।# আল্লাহ তাআলা হযরত মুসা আলাইহিস সালামের সাথে কথা বলেছেন এবং তাওরাত কিতাব নাযিল করেছেন।# আল্লাহ তাআলা বনি ইসরাঈলের জন্য সমুদ্রকে দু’ভাগ করে দিয়েছেন যার মাধ্যমে তাঁরা নীলনদ পারি দিয়ে ফেরাউনের কবল থেকে মুক্তি লাভ করেছেন। এ দিনেই ফেরাউন ও তার দলবল পানিতে ডুবে মৃত্যুবরণ করেছে।# আল্লাহ তাআলা হযরত আইয়ুব আলাইহিস সালামকে রোগমুক্ত করেছেন।# আল্লাহ তাআলা হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালামকে হযরত ইয়াকুব আলাইহিস সালামকে হযরত ইয়াকুব আলাইহিস সালামের নিকট ফিরিয়ে এনেছেন।# আল্লাহ তাআলা  হযরত ইউনুস আলাইহিস সালামকে মাছের পেট থেকে উদ্ধার করেছেন।# আল্লাহ তাআলা হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালামকে সাম্রাজ্য ফিরিয়ে দিয়েছেন।# আল্লাহ তাআলা হযরত ঈসা আলাইহিস সালামকে আকাশে উত্থিত করেছেন।# এ দিনেই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দৌহিত্র হযরত ইমাম হুসাইন রাদ্বিয়াল্লাহু তাআলা আনহুকে কারবালায় নির্মমভাবে শহীদ করা হয়েছে।# আল্লাহ তাআলা এই দিনেই কিয়ামত সংঘটিত করবেন।আশুরায় রোজা রাখার ফযিলত:
# ইবনে আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিততিনি বলেন– নবী‌ কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মদিনায় এলেন তখন দেখলেন ইহুদিরা আশুরার দিন রোজা রাখে। তখন তিনি বললেন– কেন তোমরা রোজা রাখ? তারা বলল– এ’টি উত্তম দিন। এ দিনে আল্লাহ বনি ইসরাঈলকে তাদের শত্রুর হাত থেকে মুক্ত করেছেন; তাই হযরত মুসা আলাইহিস সালাম এ দিনে রোজা রাখতেন। তখন নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন– তোমাদের চেয়ে আমি মুসার অধিক নিকটবর্তী। ফলে তিনি এ দিন রোজা রাখলেন এবং অন্যদেরকেও রোজা রাখার নির্দেশ দিলেন।-[সহীহুল বুখারীঃ ১৮৬৫]# নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন– আমি আল্লাহর নিকট প্রতিদান প্রত্যাশা করছি আরাফার রোজা বিগত বছর ও আগত বছরের গুনাহ মার্জনা করবে। আরও প্রত্যাশা করছি আশুরার রোজা বিগত বছরের গুনাহ মার্জনা করবে। -[সহিহুল মুসলিমঃ ১১৬২]# ইবনে আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন– ফজিলতপূর্ণ দিন হিসেবে আশুরার রোজা ও এ মাসের রোজা। অর্থাৎ রমজানের রোজার ব্যাপারে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যত বেশি আগ্রহী দেখেছি অন্য রোজার ব্যাপারে তদ্রূপ দেখিনি। -[সহিহুল বুখারিঃ ১৮৬৭]আশুরায় ২য় দিনে রোজার ফযিলত:# ইবনে আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু তাআলা আনহু বলেন– যখন থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আশুরার সাওম পালন শুরু করলেন এবং অন্যদেরকেও এ সাওম পালনের নির্দেশ দিলেন তখন সাহাবায়ে কিরাম রাদ্বিয়াল্লাহু তাআলা আনহুম বলে উঠলেন– এটাতো ইয়াহূদী ও খৃস্টানদের সম্মান করার দিন। (একই দিনে সওম পালন করলে আমরা কি তাদের সাদৃশ্য বনে যাবো না?)। উত্তরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন– (বেঁচে থাকলে) ইনশাআল্লাহ! আগামী বছর (১০ তারিখের সাথে ৯ তারিখেও) সাওম পালন করব। (ফলে আমাদের ইবাদত অমুসলিমদের সাথে আর সামঞ্জসপূর্ণ হবে না)। কিন্তু পরবর্তী বছর আসার আগেই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকাল করেছিলেন। -[সহিহুল মুসলিমঃ ১১৩৪]# রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন– তোমরা আশুরার দিবসে সাওম পালন কর এবং ইয়াহূদীদের সাওম পালনের পদ্ধতির সাথে মিল না রেখে ভিন্নতরভাবে তা পালন কর। আর সেজন্য তোমরা (আশুরার দিনের সাথে ৯ অথবা ১১ তারিখে) আরো একটি দিন মিলিয়ে ২ দিন সাওম পালন কর। -[আহমাদঃ ২৪১]আল্লাহ আমাদেরকে কুরআন-সুন্নাহ অনুসরণে আমল করার তাওফিক দিন। আমিন। 

লেখক: ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ, আড়াইবাড়ী ইসলামিয়া সাঈদীয়া কামিল মাদরাসা।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2020
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
jp-d802cf3c37440ece5a0e