মোকলে বেওয়া বয়স আনুমানি(৬০)বছর,স্বামীকে হারিয়েছেন প্রায় ১০ বছর আগে।ভূমি ও গৃহহীন এই বিধবার নেই মাথা গোজাঁর ঠাই,স্বামী হারিয়ে নিঃস্ব মোকলে বেওয়া তার নিজ এলাকার বাজারে,গুলগুলি আর পিঁয়াজু বিক্রি করে দুঃখ-কষ্টে দিনাতিপাত করছেন। তার ওপর কাঁধে চেপেছে বাবা হারা নাতি ও নাতনির দায়িত্ব।মোকলে বেওয়ার স্বপ্ন এখন একখণ্ড জমি ও একটি ঘর।
জানা গেছে, কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলার রমনা মডেল ইউনিয়নের মিনাবাজার ওয়াপদা বাঁধে বসবাস করে আসছেন, মৃত গোলজার আলীর স্ত্রী মোকলে বেওয়া। দুই মেয়ে বিয়ে হয়ে আলাদা হলেও এক মেয়ে শাহিনুর স্বামীকে হারিয়ে ঢাকায় পাড়ি জমান, দুই সন্তানকে রেখে যান মায়ের কাছে।
মোকলে বেওয়ার স্বামী কাঁধে করে, মাটির হাঁড়িপাতিল বিক্রি করতেন। টানাটানির সংসার, তাই কিনতে পারেননি থাকার জন্য একখণ্ড জমি তৈরি করতে পারেননি একটি ভালো ঘর। স্বামী মারা যাওয়ার পর অসহায় এই বিধবা পড়েন বিপাকে। এরপর মেয়ের ঘরের দুই সন্তানের খাওয়া দাওয়া ওপড়াশুনা খরচের চাপ। প্রথম প্রথম অন্যের বাড়িতে কাজ করলেও পরে গ্রামবাসীর সহযোগিতায় স্থানীয় মিনা বাজারে একটি ছাপরা ঘরে দোকান দেন পিঁয়াজু আর গুলগলির।দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত গুলগুলি ও পিঁয়াজু বিক্রি করে যা আয় হয় তা দিয়েই কষ্টে সংসার চালিয়ে আসছেন প্রায় ১০ বছর ধরে। থাকেন বাঁধের রাস্তায়। কিন্তু সেখানেও স্বস্তি নেই। সব সময় ভয় তাড়া করে ফিরছে তাকে, কখন নোটিশ আসে বাঁধ কর্তৃপক্ষের এবং সরিয়ে নিতে হয় তার ঘরটি।অসহায় মোকলে বেওয়া এই প্রতিবেদককে বলেন,ঘর ভাঙ্গি দিলে মুই কোটে যাইম বাহে, মোর তো একনা জায়গাও নাই,থাকার ঘরও নাই ভালো,নাতি নাতনিক নিয়া কি করিম চিন্তায় বাচিনা।’ তিনি আরো বলেন, দুপুরে দোকান খুলে পিঁয়াজু ও গুলগুলি তৈরির জিনিসপত্র মহাজনের কাছে বাকি নেই। সেগুলো বিক্রি করি সবার টাকা পরিশোধ করি যা আয় রোজগার হয়, তাই দিয়েই খাওয়া-পরা।এর ওপর নাতির পড়াশুনা, নাতনির খরচ। এলাকাবাসী বলেন, মোকলে বেওয়ার ভাজা পিঁয়াজু ও গুলগুলি খেতে দূর-দূরান্ত থেকেও লোকজন আসে। কিন্তু তার কোনো পুঁজি না থাকায় দোকান খুলে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বাকি নেন। পরে সবার টাকা পরিশোধ করে যা থাকে তা দিয়ে কষ্ট করে চলছেন।
তারা আরো বলেন, যদি সরকারের পক্ষ থেকে মোকলে বেওয়াকে জায়গাসহ ঘরের এবং ব্যবসার জন্য পুঁজির ব্যবস্থা করে দেয়া হয়, তাহলে তার কষ্ট কিছুটা হলেও দূর হবে। মোকলে বেওয়া দাবি, সরকারের পক্ষ থেকে একখণ্ড জমি, একটি ঘর। তাহলে তিনি বাকি জীবন একটু শান্তিতে কাটাতে পারবেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষের জন্য সরকার কাজ করে যাচ্ছে। আমরা চেষ্টা করব তার পাশে দাঁড়াতে।