1. admin@durontokhobor.com : admin : Md Oliullah Sarker Autol
  2. durontodesk@gmail.com : SK Md. Kamal Uddin : SK Md. Kamal Uddin
শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:২৮ পূর্বাহ্ন

এসপি হালিমের ‘সুদান মিশন ও মুজিববর্ষ’ পুলিশ সদস্যদের অনুপ্রাণিত করবে

এস এম শাহনূর
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৬ মে, ২০২২
  • ৭১৭ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

শেখ মুজিব নামটা শুনলে যাঁর চোঁখের সামনে ভেসে ওঠে ‘পরনে সাদা পাঞ্জাবি-পায়জামা সাথে কালো ওয়েস্ট কোট, চোঁখে কালো মোটা ফ্রেমের চশমা।’ তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাধীন কসবা উপজেলার শিকারপুর গ্রামের মোহাম্মদ আব্দুল হালিম। পিতা অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা ও বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহিম ভূঁইয়া। মাতা- মরহুমা নাজনীন জাহান মীর্জা। জন্ম-১৯৭৭ খ্রিস্টাব্দে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষে ২০০৫ সালে ২৪তম বিসিএস-এ বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে যোগদান করেন। মেধার কারণে দেশ বিদেশের সর্বত্র আজ তাঁর সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি ২০১৯-২১ সালে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সুদানের দারফুরে কমান্ডার হিসাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। ইতিহাসে প্রথমবারের মত বিদেশের মাটিতে বঙ্গবন্ধু ক্যাম্প ও বঙ্গবন্ধু হল নির্মাণ করেন। একনিষ্ঠ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পরপর দুইবার ৫৬টি দেশের পুলিশের মধ্যে ‘বেস্ট কমান্ডার অফ দ্যা ইয়ার’ সম্মাননায় ভূষিত হন। অমর একুশে বইমেলা ২০২২ এ অসংখ্য নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচিত হয়েছে। অধিকাংশই কবিতা, উপন্যাস,মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণামূলক। হাজারো নতুন বইয়ের ভীড়ে এক দেশপ্রেমিক পুলিশ কর্মকর্তার রোমাঞ্চকর কর্মজীবনের রোজনামচা “সুদান মিশন ও মুজিববর্ষ”। লেখকের সাথে আমার পূর্ব পরিচয় না থাকলেও বইটি পাঠে আমি একজন সত্যিকারের বাঙালির পরিচয় পেয়েছি। একজন দক্ষ ও চৌকস পুলিশ কর্মকর্তার সাক্ষাৎ পেয়েছি। একজন খাঁটি দেশপ্রেমিকের দেখা পেয়েছি। যাঁকে নিয়ে গর্ব করা যায়। যিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গর্ব, বাংলাদেশ পুলিশের গর্ব এবং বাংলাদেশের অন্যতম এক গর্বিত সন্তান বলে বিবেচিত। বর্তমানে তিনি ট্যুরিস্ট পুলিশ বান্দরবান রিজিয়নের পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন। তবে ”সুদান মিশন ও মুজিববর্ষ” বইটি লিখে তিনি হাজারো বাঙালিকে অনুপ্রাণিত করলেন। দেশের সীমানা পেরিয়ে প্রতিকূল পরিবেশ পরিস্থিতিতেও ইচ্ছা থাকলেই যে, ভাল কাজ করা যায়, নিজ মাতৃভূমির সুনাম সম্মান বৃদ্ধি করা যায় মোহাম্মদ আব্দুল হালিম তার জ্বলন্ত প্রমাণ। বিজ্ঞানকবি হাসনাইন সাজ্জাদী কর্তৃক পূর্বাপর থেকে প্রকাশিত বইটির প্রচ্ছদ এঁকেছে মোঃ ইমরানুজ্জামান রোমান। মুদ্রিত মূল্য রাখা হয়েছে মাত্র তিনশত টাকা। লেখক, বঙ্গবন্ধু ও সকল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি তাঁর বইটি উৎসর্গ করেন। ২০০৩ সালে আফ্রিকা মহাদেশের অন্যতম বৃহৎ দেশ সুদানের পশ্চিমে দারফুর প্রদেশে সংগঠিত গৃহ যুদ্ধ ও ইতিহাসের এক ঘৃন্য জেনোসাইডের প্রেক্ষিতে ২০০৬ সালে কাতারের দোহায় জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় সুদানের বিবাদমান দলগুলোর মধ্যে ‘দারফুর শান্তি চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হয়। এতে ২০১৯ সালের ২৫ মে জাতিসংঘ-আফ্রিকান ইউনিয়নের সম্মিলিত হাইব্রিড অপারেশনাল মিশন উনামিড (UNAMID) এ বাংলাদেশ ফর্মড পুলিশ ইউনিট BANFPU Rotation- ১১ সংযুক্ত হয়। বাংলাদেশ ফর্মড পুলিশ ইউনিটের কমান্ডার হিসেবে ২৯ জন মহিলা পুলিশ ও ১৪০ জন পুলিশ সদস্য নিয়ে তিনি দক্ষিণ দারফুরস্থ পৃথিবীর সর্ব বৃহৎ মিশন সুপার ক্যাম্প নিয়ালাতে কার্যক্রম শুরু করেন। উল্লেখ্য যে, এর ৯ বছর আগে ২০১০ সালেও সুদানের দারফুরে তিনি প্লাটুন কমান্ডার হিসাবে নিয়োজিত ছিলেন। তখনও বিদেশের মাটিতে একটুকরো বাংলাদেশকে ছড়িয়ে দিতে চেয়েছিলেন। সেবার বড় কোনো দায়িত্বে না থাকায় তা সম্ভব হয়ে উঠেনি। এবার সেই আশা পূরণের পালা। ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়। আসে কাঙ্ক্ষিত বিজয়। বাঙালি পুলিশ কর্মকর্তা আব্দুল হালিম কিন্তু তাই করলেন। তাঁর কাজ দেখে পৃথিবী অবাক তাকিয়ে রয়। জাগে বিস্ময়। মোহাম্মদ আব্দুল হালিমের লেখা বইয়ের নাম “সুদান মিশন ও মুজিববর্ষ”। বইটির অভ্যন্তরে প্রবেশের পূর্বে সুদান ও মুজিববর্ষ সম্পর্কে কিঞ্চিৎ ধারণা থাকা অপরিহার্য। আফ্রিকা মহাদেশের এক প্রাচীন রাজ্যের দেশ সুদান। এটি মুসলিম প্রধান হলেও মিশরের মত এর ঐতিহাসিক ঐতিহ্য রয়েছে। ধারণা করা হয় মিশরীয় ফারাওদের সাম্রাজ্য সুদানের মেরাে রাজ্য পর্যন্ত বিস্তার ছিল। তাই সুদানিজদের ঐ সময় ব্ল্যাক ফারাও বা কালাে ফারাও বলা হত। আফ্রিকা এটি এমন একটি সমৃদ্ধ মহাদেশ যে এটি সর্বদা ইউরােপীয় শক্তি দ্বারা চালিত হয়েছিল। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের রূপকার, কিংবদন্তি, স্বাধীনতার স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষ্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ২০২০ খ্রিস্টাব্দের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ খ্রিস্টাব্দের ২৬ মার্চ পর্যন্ত ২০২০-২০২১ খ্রিস্টাব্দকে মুজিববর্ষ হিসাবে জাতীয়ভাবে পালনের ঘোষণা প্রদান করে। পরবর্তী পরিস্থিতিতে তা ৩১ মার্চ ২০২২ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। জাতিসংঘের অন্যতম একটি অঙ্গ সংগঠন ইউনেস্কো। মুজিববর্ষ উদযাপনের জন্য ইউনেস্কোর ৪০তম সাধারণ অধিবেশনে বাংলাদেশের সাথে যৌথভাবে মুজিববর্ষ পালন করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ২০১৯ সালের ১২ নভেম্বর থেকে ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে অনুষ্ঠিত ইউনেস্কোর অধিবেশন চলাকালীন ২৫ নভেম্বর ইউনেস্কোর সকল সদস্যের উপস্থিতিতে মুজিববর্ষ পালনের সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। বিশ্বের ১৯৫টি দেশে অনুষ্ঠানমালা আয়োজনের পাশাপাশি ঢাকায় আমন্ত্রিত ছিলেন বিশ্বনেতারা। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ৮ জানুয়ারি, ২০২০ সালে ’৭৫ পরবর্তী সময়ে চতুর্থবারের মতো সরকারপ্রধান হিসেবে শপথ নেয়ার এক বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে বলেছেন, “২০২০ সাল আমাদের জাতীয় জীবনে এক বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বছর। এ বছর উদযাপিত হতে যাচ্ছে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী।”

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2020
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
jp-d802cf3c37440ece5a0e