ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ৮ বছর বয়সের দ্বিতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের মামলায় র্যাবের হাতে গ্রেফতারকৃত সুমন মিয়া (৩৫) কে আজ মঙ্গলবার সকালে জেল হাজতে পাঠিয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিচারিক হাকিমের আদালত।
ভৈরব র্যাব-১৪ এর সহকারী পরিচালক রফিউদ্দীন মোহাম্মদ যোবায়ের মুঠোফোনে গত সোমবার জানান, গত ২৬ জুলাই সোমবার ভোর রাতে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মকিমপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে শিশু ধর্ষণ মামলার আসামী সুমন মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। ওইদিন রাতেই সুমনকে কসবা থানায় সোপর্দ করা হয়। ধর্ষক সুমন মিয়া গ্রেফতার এড়াতে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মকিমপুর গ্রামে নিকট আত্মীয়র বাড়িতে আত্মগোপন করে ছিল। সুমন মিয়া কসবা উপজেলার বিনাউটি ইউনিয়নের মজলিশপুর গ্রামের মৃত ফজলুল করিম ওরফে আক্কাস মিয়ার পুত্র।
র্যাব-১৪ জানান, সুমন মিয়া গত ১৮ জুলাই সকালে একই গ্রামের ৮ বছর বয়সী দ্বিতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীকে স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের একটি রুমে নিয়ে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় ধর্ষিত শিশুর মা বাদী হয়ে গত ১৯ জুলাই নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে সুমন মিয়াকে আসামী করে কসবা থানায় ধর্ষণের মামলা দায়ের করেন। গ্রেফতারকৃত সুমন র্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেন।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে কসবা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আলমগীর ভূইয়া জানান, গত ১৮ জুলাই সকালে উপজেলার মজলিশপুর গ্রামের দ্বিতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীকে অস্ত্রের মুখে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে একই গ্রামের মৃত ফজলুল করিম ওরফে আক্কাস মিয়ার পুত্র সুমন মিয়া। ওইদিনই শিশুটিকে উদ্ধার করে ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় ধর্ষিত শিশুর মা বাদী হয়ে গত ১৯ জুলাই নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে সুমন মিয়াকে আসামী করে কসবা থানায় ধর্ষণের মামলা দায়ের করেন। তিনি আরো জানান, ধর্ষণের শিকার শিশুটির ডাক্তারী পরীক্ষার রিপোর্ট এখনো পাওয়া যায়নি। গতকাল মঙ্গলবার সকালে শিশু ধর্ষণ মামলার আসামী সুমন মিয়াকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদ হাসানের আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণ করেন।